Eye Tech 24 https://www.eyetech24.com/2020/07/blog-post_20.html

স্লোমোশন ভিডিওর সেরা ১০ এন্ড্রোয়েড অ্যাপ

আপনার এন্ড্রোয়েড ফোনের জন্য সেরা ১০ টি স্লোমোশন অ্যাপ।


প্রযুক্তির এই যুগে এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন এখন সবখানে। অতি প্রয়োজনীয় এই ডিভাইস টি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান কে করেছে আরো সমৃদ্ধ। যোগাযোগের সব চেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম এখন এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন।এতে রয়েছে হাজারো ফিচার। এন্ড্রোয়েড স্মার্ট ফোনে ভিডিও এডিটিং এর জন্যও রয়েছে বেশ কিছু সফটওয়্যার। এমন ই ১০ টি সেরা স্লোমোশন ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর কথা জানাবো আজ।


১.স্লো মোশন ভিডিও এফ এক্স 

স্লোমোশন ভিডিও এফ এক্স এন্ড্রোয়েড মোবাইলের সব চেয়ে সেরা অ্যাপ গুলোর মধ্যে অন্যতম।এটি স্লোমোশন ক্যামেরা ও অ্যাপ উভয়ের কাজ করে। এই অ্যাপ টি শুধুমাত্র স্লোমশন ভিডিও বানাতেই সাহায্য করে না বরং আগে থেকে করে রাখা যে কোনো ভিডিও কে স্লোমোশনে কনভার্ট করতে পারে। ব্যাবহার করা অনেক সহজ। অ্যাপ ওপেন করার পর "Star Slow Motion" এ ট্যাপ করলেই আপনি ভিডিও করতে চান নাকি কনভার্ট করতে চান তা জানতে চাইবে। আপনার যেটি করার ইচ্ছা করতে পারবেন। ০ থেকে ১ পর্যন্ত এর স্কেল রয়েছে। ০ তে স্লোমোশন সব চেয়ে বেশি।আর যদি ১ এ দেন তাহলে স্লোমোশন না হয়ে হাইপারল্যাপ্স হবে অর্থাৎ ভিডিও স্লোমোশন না হয়ে ফাস্ট মোশন হবে।

২.ভি এল সি 

আপনি যদি স্লোমোশন ভিডিও প্লেয়ার খুজে থাকেন তাহলে ভি এল সি প্লেয়ার আপনার জন্যই।এই ভিডিও প্লেয়ারের মাধম্যে আপনি যে কোন ফরমেটের ভিডিও স্লোমোশনে বা ফাস্টমোশনে দেখতে পারবেন। স্লোমোশন ভিডিও ০.২৫গুন  এবং ফাস্টমোশন ভিডিও ৪ গুন দ্রুত পর্যন্ত দেখতে পারবেন।
৩ ডট অপশনে গিয়ে ভিডিও প্লে ব্যাক স্পিড সিলেক্ট করে স্পিড কন্ট্রল করতে পারবেন খুব সহজে।

৩.স্লোমোশন ক্যামেরা

স্লোমোশন ক্যামেরা বাকি এন্ড্রয়েড এপ গুলোর মধ্যে অন্যতম।এই অ্যাপ এর মাধ্যমে স্লোমোশনে যেমন ভিডিও করতে পারবেন আবার দ্রুতও করতে পারবেন।তবে আরও মজার ব্যাপার হল এর মাধ্যমে ভিডিও রিভার্স করতে পারবেন যে এর অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য।এ ছাড়াও ভিডিও কাট করতে পারবেন, বিভিন্ন ইফেক্ট এড করতে পারবেন।কিন্তু অন্য ভিডিও এডিটর গুলোর মত এই অ্যাপ আপনার ভিডিওতে ওয়াটার মার্ক এড করবে না যা খুব ভালো একটি বৈশিষ্ঠ্য।

৪.ভিডিও শপ 

ভিডিও শপ এন্ড্রোয়েড ভিডিও এডিটিং অ্যাপ  বাকি গুলোর মধ্যে সেরার তালিকায় অন্যতম।এটির অনেক অনেক ফিচার রয়েছে।যদিও ফ্রি ফিচার তেমন বেশি না তবে প্রিমিয়াম আনলক করলে অনেক বেশি ফিচার পাওয়া যাবে।ভিডিও ট্রিমিং,ভিডিও তে বিভিন্ন ইফেক্ট দেয়া,ইন্ট্রো তৈরি করা এনিমেশনে, ভিডিও এর কালার কারেকশন, আলাদা করে ভিডিও তে অডিও এড করা সহ আরো অনেক ফিচার রয়েছে আর হ্যা অবশ্যই স্লোমোশন করতে পারবেন শুধু মাত্র ভিডিও স্পিড সিলেক্ট করে আপনার ইচ্ছামত।

৫. ভিডিও স্পিড

যদি আপনি খুব সাধারণ ভিডিও এডিটিং অ্যাপ খোঁজেন যা সহজেই ভিডিও স্লোমোশনে করতে পারবে তাহলে ভিডিও স্পীড আপনার জন্য আদর্শ। কারণ এখানে ভিডিও এডিট বা ধারন করতে পারবেন স্লোমশনে এবং তা আপনার পছন্দের সোশ্যাল প্লাটফর্ম যেমন ফেসবুক, টিকটক,টুইটার বা ইন্সটাগ্রাম এ সরাসরি শেয়ার দিয়ে পারবেন।সব চেয়ে মজার ব্যাপার হল এই অ্যাপ সব ফরমেট এর ভিডিও সাপোর্ট করে যা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার বলা যেতে পারে।

৬. স্লোমশন ভিডিও মেকার

অন্য অ্যাপ গুলোর মত এই অ্যাপ ও একই কাজ করে থাকে অর্থাৎ ভিডিও স্লোমোশনে ধারন করতে পারে বা স্লোমোশনে কনভার্ট করতে পারে।এই অ্যাপ টিও প্রায় সব ফরমেট এর ভিডিও সাপোর্ট করে যা খুব ভালো ফিচার কারণ বেশিরভাগ অ্যাপেই এই ফিচার থাকে না।আর আপনি চাইলেই আপনার ভিডিও টি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এ সরাসরি অ্যাপ থেকে শেয়ার করতে পারবেন। 

৭.স্লোমোশন ভিডিও জুম প্লেয়ার

নামে একটু বড় হলেও কাজে কোনো অংশেই কম নয় এই অ্যাপ।নানান ফিচারে ঠাঁসা এই অ্যাপ টি খুব জনপ্রিয় একটি স্লোমোশন ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। স্লোমোশন ভিডিও সহ নানান ইফেক্ট, হাইপারল্যাপ্স, রিভার্স প্লে মুড সহ আরও অনেক ফিচার রয়েছে।আগের অ্যাপ গুলো তে অনেক অনেক ফিচার থাকলেও এই খানে আলাদা একটা ফিচার রয়েছে তা হলো জিফ ফাইল এ কনভার্ট করতে পারে। অর্থাৎ ছবি থেকে ছবি (pip) যা একে অন্য অ্যাপ গুলো থেকে আলাদা করে তুলছে।বাকি সব ফিচার গুলো একই ধরণের প্রায়।

৮.স্লোমোশন স্পিড ভিডিও এডিটর

এই অ্যাপ টি তুলনামূলক নতুন একটি স্লোমোশন ভিডিও অ্যাপ যা মাত্র এক ট্যাপে ভিডিও কে স্লোমোশনে কনভার্ট করতে সক্ষম তাও খুব কম সময়ে ।শুধু আপনার গ্যালারি থেকে ভিডিও সিলেক্ট করে স্পিড সিলেক্ট করে দিন তাহলে কিছুক্ষনের মাঝেই ভিডিও রেডি হয়ে যাবে।বাকি যে ফিচার গুলো রয়েছে তা অন্য সব স্লোমোশন অ্যাপ এর মতই খুব একটা পার্থক্য নেই তবে নতুন হিসেবে কার্যকরী।

৯.স্লোমশন ফ্রেম ভিডিও প্লেয়ার

এই ভিডিও প্লেয়ার টি অনেকটা ভি এল সি  প্লেয়ারের মতই।সাধারন একটি অ্যাপ যা দিয়ে কোন ভিডিও কে স্লো বা দ্রুত করে দেখা যাবে ।চাইলে জুম করেও দেখা সম্ভব এই এডিটরে ফিচারের কারনে।তা ছাড়া খুব সহজ একটি অ্যাপ এটি যা সকলেই ব্যাবহার করতে পারবে।কিন্তু কোন ভিডিও কে স্লোমোশনে কনভার্ট করতে পারবেন না।শুধু দেখতে পারবেন।

১০.স্লোমোশন মুভি মেকার 

এই অ্যাপ টি আমাদের তালিকার শেষ অ্যাপ।এন্ড্রোয়েড স্মার্ট ফোনের জন্য এটি খুব ভালো একটি অ্যাপ।অন্য অ্যাপ গুলোর তুলোনায় এটি আরো অনেক বেশি স্লো বা ফাস্ট ভিডিও করতে বা কনভার্ট করতে পারে। ০.২৫ গুন স্লো করতে পারে আবার অপরদিকে প্রায় ১৬ গুন দ্রুত করতে পারে।এই ফিচার টি একে অন্য সব গুলোর তুলোনায় একটু আলাদা করেছে। 


এই ছিল ১০ টি সেরা স্লোমোশন ভিডিও এডিটিং অ্যাপ।আপনার যে কোন ভিডিও স্লোমোশনে এডিটিং এর জন্য এই ১০ টি অ্যাপ অবশ্যই ভাল হবে এবং নিঃসন্দেহে সেরা।তাই এখনি ডাউনলোড করে ফেলুন আপনার পছন্দের অ্যাপ টি।আর আর্টিকেল টি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।আর কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন আশা করি।

ধন্যবাদ।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নতুন পোস্টের নটিফিকেশন পেতে চান?

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া