Eye Tech 24 https://www.eyetech24.com/2020/08/blog-post_18.html

কি ঘটবে যদি পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন হয়

আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে, যদি পৃথিবী অন্যকোনো কক্ষপথে পাঠানো হয় তবে কি ঘটবে? যদি জেগে থাকে, তবে আপনার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতেই এসেছি এই আর্টিকেল নিয়ে। তাই, দেরি না করে পড়তে শুরু করুন।



সূর্যের তাপমাত্রা প্রতিদিন একটু একটু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ সূর্যের অন্তস্তলে প্রতিনিয়ত Hydrogen এর বিক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। প্রায়, ৫ বিলিয়ন বছর পর সূর্যের আকার এতটাই বড় হবে যে এটি পৃথিবীকে গ্রাস করতে সক্ষম হবে। কিন্তু প্রায় ১.১ বিলিয়ন বছর পর সূর্যের তাপমাত্রা এতটাই বেশি হবে যে সাগরের পানি টগবগ করে ফোঁটার আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যাবে। এতে তো মানুষ একদমই বাঁচতে পারবে না। শুধুমাত্র Archaea নামক এক জীব বেঁচে থাকতে পারে। তাই, মানুষ যদি বেঁচে থাকতে চায় তবে তাকে অন্য কোনো গ্রহে গিয়ে বসবাস করতে হবে কিংবা পৃথিবীকে অন্য কোনো কক্ষপথে স্থানান্তর করতে হবে। কিন্তু এটা কি আদেও সম্ভব। হ্যাঁ, সম্ভব। বিস্তারিত জানতে আরও পড়তে থাকুন।

ক্ষুদ্র পরিবর্তনঃ

আপনি কি কখনো দেখেছেন বন্দুক দিয়ে যখন গুলি ছোঁড়া হয় তখন বন্দুক কিছুটা পেছনে সরে যায়? বিজ্ঞানীরা ঠিক এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে, একটি দুটি রকেট দিয়ে এই কাজ হবে না। যদি, অনেক ভারি রকেট ব্যবহার করা হয় তবেই এটি করা সম্ভব। Stanley Schmidt তার The Sins of the Fathers বইয়ে এই পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে University of California, Santa Cruz এ এই বিষয়ে অনেক গবেষণা চলছে। 

কিভাবে কাজটি করা সম্ভব হবেঃ

অনেক বিজ্ঞানী চিন্তা ভাবনা করছেন কোন কক্ষপথে পৃথিবীকে পাঠানো উচিত সে বিষয়ে, যেন সূর্যের তাপমাত্রা আরও অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার পর পৃথিবী কোনো ক্ষতি না হয়।

অনেক হিসাব নিকাশ করার পরে তারা দেখলেন, সূর্য থেকে পৃথিবীর যে দূরত্ব সে দূরত্ব থেকে পৃথিবীকে যদি ১.৫ গুন দূরে পাঠনো যায় তবে পৃথিবী ৬.৩ বিলিয়ন বছর পর সূর্য থেকে বর্তমানে যে আলো এবং তাপ পাচ্ছে ঠিক তেমনই একটা অবস্থায় বিরাজ করবে।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, যদি পৃথিবীকে যদি কোনো বৃত্তাকার কক্ষপথে পাঠাতে হয় তবে এর অরবিটাল এনার্জি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। এটা তখনই সম্ভব যদি খুব ঠাণ্ডা প্রকৃতির গ্রহ পৃথিবীর পাস দিয়ে কক্ষপথ পরিবর্তন করে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ, এক্ষেত্রে ঐ গ্রহ পৃথিবীকে তার কিছু অরবিটাল এনার্জি প্রদান করবে। 

স্টেরেলাইজ বায়োসফেয়ার পদ্ধতিঃ

অনেক বিজ্ঞানী আবার একটি চমকপ্রদ পদ্ধতি বের করছেন। তারা বলেছেন, "যদি পৃথিবীর চারপাশে এমন একটি গ্রহ আনা হয় যেটা অনেক বেশি ঠাণ্ডা সেটি পৃথিবীকে রক্ষা করবে। সূর্যের তাপমাত্রা যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, উক্ত গ্রহটি এই তাপমাত্রা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবে। 

কিন্তু যদি এই গ্রহের একটি খণ্ড পৃথিবীতে এসে পড়ে তবে পৃথিবীর অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই এই পদ্ধটি অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

পুশ ফ্রম দা সান পদ্ধতিঃ

এই পদ্ধতিতে সূর্য থেকে পৃথিবীকে সরিয়ে নেওয়া হবে রশ্মির প্রতিফলনের মাধ্যমে। সূর্য থেকে রশ্মি আসবে সেটা প্রতিফলিত করলে পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে থাকবে। এটির ক্ষেত্রে ভরবেগ, অরবিটাল এনার্জি ইত্যাদি ঠিক থাকবে। এই পদ্ধতি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। 

থ্রোন ইনটু কেওয়াসঃ

অনেক বিজ্ঞানিরা ধারণা করছেন যদি সকল গ্রহকে ইচ্ছা মতন কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত করে নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠানো হয় তবে তারা সফল হবেন। কিন্তু, এটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, প্রত্যেকটি গ্রহ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে আছে। তাই, সেটা থেকে সকলকে বিচ্যুত করলে মহাবিশ্বে এমন এক অনিয়ম সৃষ্টি করবে যেটা আমাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। 

পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন নিয়ে এখন অনেক গবেষণা চলছে। আধুনিক বিজ্ঞান অনেক দ্রুত কোনো না কোনো সমাধান বের করে ফেলবে।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নতুন পোস্টের নটিফিকেশন পেতে চান?

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া