Eye Tech 24 https://www.eyetech24.com/2020/08/blog-post_29.html

উইন্ডোজ-১০ এর দশটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার

আমাদের জীবন এখন প্রযুক্তি নির্ভর। প্রযুক্তি ছাড়া আমাদের জীবনযাত্রা প্রায় অচল। আর এই প্রযুক্তির পেছনে গূরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে কম্পিউটার। কম্পিউটারের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই বেশ জটিল সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারি। 
কম্পিউটার কেবলই একটা যন্ত্র, এই যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রন করে থাকে একটি অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজ (Windows) হচ্ছে কম্পিউটারের একটি অপারেটিং সিস্টেম, যার সাহায্যে মোটামুটি বেশির ভাগ সংখ্যক কম্পিউটার অপারেট হয়ে থাকে। আর কিছু হচ্ছে ম্যাক (Mac) অপারেটিং সিস্টেম।
যেমন আপনার বাজারে শাওমি, স্যামসাং, হুয়াওয়ে ইত্যাদি ফোনের নাম শুনে থাকবেন, এই ফোনগুলো অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। আর আইফোনের প্রোগ্রাম হচ্ছে আইওএস নামক অপারেটিং সিস্টেম।
যাই হোক। আমি আজ আপনাদেরকে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজে ব্যবহৃত দশটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে বলব। যেগুলো আপনার অপারেটিং সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চলুন আজ সেই দশটি অ্যাপ সম্পর্কে জেনে নিই।

Franz

Franz বেশ চমৎকার নাম তাই না? আমরা ছোট বেলায় “একের ভেতর দশ, একের ভেতর অনেক” এই ধরণের গাইড পড়েছিলাম। ঠিক এই অ্যাপকে ও আপনি সে রকমই ভাবতে পারেন। এই একটি অ্যাপের মধ্যে আপনি অনেক গুলো মেসেজিং অপশন যুক্ত করতে পারবেন, যেমন; ফেসবুক, হোয়াটস-অ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং জিমেইল ছাড়াও অনেক গুলো অপশন পাবেন। 
Franz এর চমৎকার বিষয় হলো এখানকার মেসেজিং অ্যাপগুলোর ইন্টারফেস আসল ইন্টারফেসের মতই। আর অবশ্যই এটি সম্পূর্ণ সিকিউর।
এর একটা বিরক্তিকর জিনিস, সেটা হলো কয়েক সেকেন্ড পর পর এটি আপনাকে প্রিমিয়াম ভার্সনে আপগ্রেডের জন্য নোটিফিকেশন পাঠাতে থাকে। আর প্রিমিয়াম ভার্সনে চলে গেলে এমন বিরক্তিতে পড়তে হবে না।

Wox

Wox এটি বেশ চমৎকার একটি অ্যাপ, উইন্ডোজে আপনি হয়ত সার্চ অপশন বা সার্চ বার পেয়ে থাকবেন, কিন্তু এর কার্যকরিতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে, এ ছাড়াও এটি যথেষ্ট পরিমানে সময় নেয়, কোনো কিছু খুঁজে দিতে। 
চিন্তার কিছু নেই আমি এখন যেই অ্যাপের কথা বলছি আপনি সেখানে আপনার কম্পিউটারে থাকা যেটাই সার্চ করবেন। আপনাকে মুহূর্তেই ফলাফল প্রকাশ করবে। আপনি যদি কোনো ব্রাউজারের নাম লিখেন, আপনাকে মুহুর্তেই ব্রাউজারে নিয়ে যাবে। এই অ্যাপটি আমি বিশেষ করে তাদেরকে সুপারিশ করব, যাদের অনেক গুলো অ্যাপ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

SoundSwitch

ধরুন আপনার পিসিতে অনেক গুলো মিউজিক সাউন্ড সিস্টেম কানেক্টেড রয়েছে। যেমন; হেডফোন, স্পিকার, ব্লুটুথ ডিভাইস, আপনি এই সিস্টেম গুলো একটি থেকে আরেকটিতে নিতে উইন্ডোজের মাধ্যমে অনেক কিছু করতে হয়।
কিন্তু SoundSwitch থেকে শুধু Cntrl+alt+F11 চাপ দিলে মুহূর্তেই মিউজিক আউটপুট সিস্টেম পরিবর্তন হয়ে যাবে।

Sandboxie

কিছু অ্যাপ আছে, যেগুলো আমাদের সিস্টেম ফাইলগুলোকে আক্রমণ করে। এই সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে চাইলে আপনি Sandboxie এর সাহায্য নিতে পারেন। এখান থেকে আপনি যেকোনো ধরনের ফাইল ওপেন করাতে পারবেন। সুতরাং কোনো অ্যাপ আর আপনার কোনো ফাইলের ক্ষতি ককরতে পারবে না।
এই অ্যাপে কিছু পপ-আপ বিজ্ঞাপণ আসে যেটা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর। আর এই অ্যাপে আপনি ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করে একইসাথে কেবল একটি অ্যাপ চালাতে পারবেন। একের অধিক চালাতে হলে আপনাকে প্যাকেজ কিনে নিতে হবে।

Chocolaty

আপনি যদি কখনো আপনার কম্পিউটার ফরমেট দেন, তাহলে প্রতিবার ফরমেট শেষে আপনাকে আপনার নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যাপ যেমন; Google Chrome, Photoshop, VLC ইত্যাদি অ্যপ গুলো পৃথক পৃথক ভাবে ইন্সটল করতে হয়, যেটা প্রচুর পরিমাণে সময় ব্যায় করে।
আপনি Chocolaty এর সাহায্যে নির্দ্বিধায় সকল অ্যাপ একসাথে ইন্সটল করে নিতে পারবেন।

Simple sticky notes

আজকাল আমাদের সাধারণ একটি ঝামেলায় পড়তে হয়, সেটি হলো, আমাদের এখন অনেক জায়গায় অনেক গুলো অ্যাকাউন্ট, ধরুন সামাজিক মাধ্যম গুলো, এবং অন্যান সাইটগুলোতেও আমাদের প্রায় সময়ে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন পড়ে, এই সকল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও একই রকম থাকে না। তাই আমাদের পাসওয়ার্ড গুলো মনে রাখা বেশ কষ্টকর।

চিন্তার কিছু নেই Simple sticky notes আপনার সকল অ্যাকাউন্ট এবং পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখবে। আপনি আপনার প্রয়োজন মতো পাসওয়ার্ড গুলো হাইড, রিকভার কিংবা ডিলেট করতে পারেন।

Sharp key

আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ বেশি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনি সেই অ্যাপ গুলো Sharp key ব্যবহার করে শর্টকার্ট ওপেন করতে পারবেন। এর জন্য আপনি অ্যাপসের সেটিংস অপশনে গিয়ে ইচ্ছে মতো শর্টকার্ট Key বাচাই করে শর্টকার্ট তৈরি করতে পারবেন।

Sejda pdf desktop

আমাদের এখন ডকুমেন্ট ফাইল এবং PDF এর প্রচলন অত্যন্ত বেশি। আর PDF ফাইল রিডার বলতে আমরা Adobe কেই ব্যবহার করি, কিন্তু সেখান থেকে এগুলো এডিট করতে হলে এর ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন পড়ে। তাই আমি আপনাদের sejda pdf destop ব্যবহারের সুপারিশ করব। 

এখান থেকে যেকোনো ধরনের ডকুমেন্ট PDF ফাইলের রুপান্তর করা ছাড়াও সেগুলো এডিট ও করা যায় অনায়াসে।

Nox Android Emulator

অ্যান্ড্রয়েড অ্যামুলেটরের নাম শুনে ভ্রু কুঁচকে গেছে? মনে হচ্ছে যেন সবই একই গোয়ালের গরু! না এই ক্ষেত্রে আমি আপনাকে ভিন্ন গল্প শোনাব। এটা আসলেই বেশ ভালো কাজ করতে সক্ষম। আশা করি এটি আপনাকে হতাশ করবে না। এর জন্য আপনাকে আলাদা করে Rooting, ADB, এবং consoling এর মত ঝামেলা পোহাতে হবে না। শুধু এক ক্লিকেই সকল অ্যাক্সেস পারমিশন পেয়ে যাবেন আপনি। 

Nox Android Emulator এর সাহায্যে আপনি একটি ভিন্ন স্বাদ পেতে পারেন। মাউস দিয়ে আপনার গেম কন্ট্রোল করতে পারবেন। সাথে আছে স্ক্রিন রুট ফিচার। তাই আলাদা করে আপনাকে রুট করতে হবে না। 

Plex media

সহজ ভাবে বললে Plex media একটি মিডিয়া অ্যাপ। কিন্তু এর আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো আপনি এর মাধ্যমে অন্যান্য ডিভাস থেকেও একই ফাইলে অ্যাক্সেস করতে পারবেন। এর জন্য আপনার মূল ডিভাইস অর্থাৎ কম্পিউটার সবসময় ইন্টারনেট কানেকশন যুক্ত থাকতে হবে। 
তারপর আপনার কম্পিউটারের সকল ফাইল মুভি সব কিছু হোস্ট করতে পারবেন। তবে এটা শুধু মিডিয়া ফাইল হিসেবে ব্যবহার করতেও আমি দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এর একটাই সমস্যা তা হলো ইন্টারনেট কানেকশন যুক্ত থাকতে হবে, যেটা অনেকের কাছে কিছুই না, আবার যারা মোবাইল ডাটা বা মডেম ব্যবহার করে তাদের জন্য অনেক কিছু।
যাইহোক এই ছিল আজকের আলোচনার বিষয়। আপনার  উইন্ডোজে ব্যবহার করতা উচিত এমন কিছু অ্যাপ সম্পর্কে জানিয়ে দিলাম। যেগুলো ব্যবহার করে আপনার উইন্ডোজ অভিজ্ঞতাকে আরো চমকপ্রদ করতে পারবেন। আজ এ পর্যন্তই সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নতুন পোস্টের নটিফিকেশন পেতে চান?

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া