Eye Tech 24 https://www.eyetech24.com/2022/04/blog-post_85.html

পীরের মুরিদ

আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত ও আনুগত্য করা হয় যাদের ইসলামের চতুর্থ প্রধান তাগূত: পীর-ফকির আহবার-রুহবান পরিভাষায় তাগূত বলে আখ্যায়িত করা হয় তাদের আরেকটি প্রকার মারাত্মক তাগূত হলো পীর-ফকির ও দরগাহ মাজার। এটি অন্যান্য তাগূতের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক ক্ষতিকর। কেননা অন্যান্য তাগূতগুলো আল্লাহর ইবাদতের পরিবর্তে নিজেদের ইবাদতের দিকে মানুষদের আহ্বান করলেও তা ধর্মের নামে করে না।   পীরের মুরিদ





কিন্তু এই প্রকারের তাগূত মানুষদের নিজেদের ইবাদত ও আনুগত্যের দিকে আহ্বান করে ধর্মীয় ইবাদতের আদলে। সে কারণে সাধারণ মানুষ আল্লাহর ইবাদত মনে। করেই তাদের ইবাদত করে থাকে। এরা সাধারণত মানুষের থেকে দুই ভাবে ইবাদত নেয়। আকিদাহ ও বিশ্বাসগতভাবে এবং আমলগতভাবে। আকিদাহগত বিষয়: যেমন চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মোহাম্মদ এছহাক সাহেব বলেন,
(ক)পীরের কাছে মুরীদ হওয়া ফরজ ' ( মাওয়াজে এছহাকিয়া ৫৫ পৃ :) ,

(খ) ' যদি তোমার দুইজন পীর হয় আর যদি আল্লাহ উভয় পীরকে মাফ করেন কেয়ামতের দিন নাজাত দেন , তবে- ' দুই পীর তোমার দুই ডানা ধরে বেহেশতে নিয় যাবেন । কোনোই ক্ষতি নাই ৷ ' ( মাওয়াজে এছহাকিয়া ৫৫-৫৬ পৃ :)      পীরের মুরিদ


অথচ ফরজ বিধান দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা । কুরআন ও সহীহ হাদীসের সুস্পষ্ট দলিল - প্রমাণ ব্যতীত কোনো ইবাদতকে ফরজ বলা যায় না । তারপর দুই পীর দুই ডানা ধরে বেহেশতে নিয়ে যাওয়া এটারও কোনো দলিল - প্রমাণ নেই । পীরের মুরিদ
তাই সে যতো বড় পীরআর যত বড় কামেল ওলী আল্লাহ হোক না কেন । রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও কন্যা ফাতেমা (রা.) কে ডেকে বলেছেন। হে ফাতেমা । তুমি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। আমি তোমার কোনো উপকার করতে পারবো না ।   পীরের মুরিদ

বিস্তারিত হাদীসটি নিম্নে পেশ করা হলোঃ

আবু হুরাইরা ( রা . ) থেকে বর্ণিত , যখন এই আয়াত নাযিল হলো ' হে নবী ! আপনি আপনার নিকটত্মীয়কে আখিরাতের ব্যাপারে সতর্ক করুন ' তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের সাধারণ এবং বিশেষ ব্যক্তিদের আহবান করলেন এবং বললেন , হে কাব ইবনে লুআই এর বংশধরেরা ! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও । হে মুররা ইবনে কাবের বংশধরেরা ! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও । হে আবদে শামসের বংশধরেরা ! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও । হে আবদে মানাফের বংশধরেরা ! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও । হে বণী হাশেম ! তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বঁচাও । হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরেরা তোমরা নিজেদের আগুন থেকে বাঁচাও । হে ফাতেমা ! তুমি নিজেকে আগুন থেকে বাঁচাও । মনে রেখ ! ( ইমান ব্যতিরেকে ) আমি তোমাদের কোনো কাজে আসব না । তবে হ্যাঁ ! তোমাদের সাথে আমার যেই আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে তা আমি অবশ্যই অটুট রাখবো ।        পীরের মুরিদ
( মুসলিম ৫২২ , নাসায়ী ৩৬৪৬ , মুসনাদে আহমাদ ২৪০২ , ৮৭২৬ , ১০৭২৫ , মেশকাত ৫৩৭৩ )

(গ ) পীর - সুফিগণ মাঝে মধ্যে আল্লাহর বিরুদ্ধেও জঘন্য মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করে না । যেমন চরমোনাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মোহাম্মদ এছহাক সাহেব বলেন , .....
কুতুব সাহেব উত্তর করিলেন , মা'বুদের কাছে আবার কি জিজ্ঞাসা করিব- তাঁহার আন্দাজ নাই ? এই বৃদ্ধার একটি মাত্র পুত্র ছিল তাহাও নিয়াছে । বাকি ছিল এই নাতিটি , যে গাভী পালন করিয়া কোনোরূপ জিন্দেগী গুজরান করিত , এখন এটিও নিয়া গেল । তাই আমি আল্লাহ্ পাকের দরবার থেকে জোরপূর্বক রূহ্ নিয়া আসিয়াছি ।         পীরের মুরিদ

ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা নামক বইয়ের ১৫ নং পৃ : শামছুত তাব্রিজী ( র ) -এর নকল শিরোনামে , প্রকাশক : আল - এছহাক পাবলিকেশন্স , ইসলামী টাওয়ার , ১১/১ বাংলাবাজার , ঢাকা- ১১০০০ , সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন সংস্করণ : নভেম্বর , ২০০৬ ইং )
অথচ জীবন - মৃত্যু দেওয়ার একমাত্র মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা । তিনি সবকিছুই আন্দাজ তথা পরিমিতভাবে করেন । কিন্তু এখানে পীর সাহেব আল্লাহর বিরুদ্ধে ' আন্দাজ নাই ' বলে এক জঘন্য মন্তব্য ছুড়ে দিলেন যা আল্লাহর সঙ্গে চরম বেয়াদবী ছাড়া আর কিছুই না ।    পীরের মুরিদ

বর্তমানে তারা নতুন সংস্করণে এটাকে বৈধ করার জন্য টিকা সংযোজন করেছে । এ ধরনের কথা বলা- আমাদের মতো সাধারণ লোকদের জন্য পরিষ্কার কুফুরী গণ্য হইবে । কিন্তু আল্লাহ্ পাকের দেওয়ানা বান্দারা এশকের চরম হালতে অন্তরের ভারসাম্য হারাইয়া এক প্রকার বেহুঁশ অবস্থায় কদাচিৎ এরূপ বলিয়া ফেলেন ।         পীরের মুরিদ 

মাওলানা রুমী ( র . ) বলিয়াছেন আল্লাহ্ পাকের আশেকদের এ ধরনের উক্তি একের জোশ বশত ঘটিয়া যায় , তাই আল্লাহ্ পাকের নিকট তাহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হয় না ।

যেরূপ শিশু যদি পিতার মুখে থাপ্পড় মারে কিংবা দাড়ি ছিড়িয়া ফেলে , পিতার নিকট তা পীড়াদায়ক হয় না বরং তাতে আরও মহব্বতের জোয়ার উঠে । ' এখানে প্রথমে স্বীকার করা হয়েছে যে , এ ধরনেরকথা - বার্তা পরিষ্কার কুফুরী । পরে বলা হয়েছে , এশকের চরম হালতে অন্তরের ভারসাম্য হারাইয়া এক প্রকার বেহুঁশ অবস্থায় কদাচিৎ এরূপ বলিয়া ফেলেন ।        পীরের মুরিদ

তাহলে বেহুঁশ বা পাগল - ছাগলের কথা বর্ণনা করার কী প্রয়োজন ? কারণ বেহুঁশ ও পাগলের ওপর ইসলামী শরী'আতের কোনো বিধান প্রযোজ্য নয় । শরী'আতের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার জন্য আক্কল বালেগ , প্রাপ্ত বয়স্ক ও জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া জরুরি । তারপর বলা হয়েছে , শিশু যদি পিতার মুখে থাপ্পড় মারে কিংবা দাড়ি ছিড়িয়া ফেলে , পিতার নিকট তা পীড়াদায়ক হয় । না । বরং তাতে আরও মহব্বতের জোয়ার উঠে । '         পীরের মুরিদ
 
তাহলে কি পীর সাহেবরা
এবং তার মুরীদরা সকলেই ইয়াহুদি - খ্রিস্টানদের মতো নিজেদের আল্লাহর সন্তান ও নাতি - পুতি বলে দাবি করছে ? আমাদের জানামতে ইয়াহুদি খ্রিস্টানরা নিজেদের আল্লাহর সন্তান ও নাতি - পুতি বলে দাবি করেছে ।           পীরের মুরিদ

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে
ইয়াহুদি ও নাসারারা বলে , আমরা আল্লাহর পুত্র ও তার প্রিয়জন । ' ( মায়েদা ৫:১৮ )
তাছাড়া শিশুরা অবুঝ । অবুঝ বলেই শরী'আতের বিধি - বিধান তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় । তাহলে উনাদের পীর - মুরীদ এবং তাদের শামুসুত তাররীজিসহ সকলেই কি অবুঝ শিশু ? শিশুরা তো বাবার কোলে পেশাব পায়খানাও করে দেয় । তাহলে উনারা আবার এমনকিছু করছেন না তো ? মূলত তাদের এ সকল কথাবার্তা কুরআন হাদীসের দলিল - প্রমাণ ছাড়া পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয় । এগুলো থেকে মুসলিম জাতিকে সাবধান থাকা উচিত ।            পীরের মুরিদ

(ঘ ). ইসলামের আকিদাহ হলো কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আল্লাহ প্রদত্ত্ব ও রাসুল প্রদর্শিত শরী'আহ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে । কোনো অবস্থাতেই কারো ওপর থেকে শরীআহ রহিত হয়ে যায় না । কিন্তু পীর সুফিদের মতে কামেল পীরের নির্দেশ হলে শরী'আতের প্রকাশ্য বিধানকেও অমান্য করতে হবে ।
যেমন : সুফিদের ইমাম হাফেজ রুমীর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ মাসনবী ' এর বরাত দিয়ে চরমোনাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মো . এছহাক সাহেব বলেন .........   পীরের মুরিদ

কামেল পীরের আদেশ পাইলে নাপাক শারাব ( মদ ) দ্বারাও জায়নামাজ রঙিন করিয়া তাতে নামাজ পড় । অর্থাৎ শরী'আতের কামেল পীর সাহেব যদি এমন কোনো হুকুম দেন , যা প্রকাশ্যে শরী'আতের খেলাফ হয় , তবুও তুমি তা নিরাপত্তিতে আদায় করবে । কেননা , তিনি রাস্তা সব তৈরি করেছেন । তিনি তার উঁচু - নিচু অর্থাৎ ভালোমন্দ সব চিনেন , কম বুঝের দরুন জাহেরিভাবে যদিও তুমি তা শরীয়তের খেলাফ দেখ কিন্তু মূলে খেলাফ নয় । ' ( ' আশেক মাশুক বা এস্কে এলাহী ’ ৩৫ পৃষ্ঠা , আল - এছহাক প্রকাশনী , ইসলামী টাওয়ার , ১১ / ১- বাংলাবাজার , ঢাকা , সংশোধীত ও পরিমার্জিত নতুন সংস্করণ- নভেম্বর ২০০৬ )         পীরের মুরিদ

(ঙ) . পীর - সুফিগণ অনেক সময় অকপটে স্বীকার করেন যে , তাদের ধর্ম ও মাযহাব ভিন্ন । অর্থাৎ কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত যে ধর্ম ও মাযহাব অর্থাৎ ইসলাম পীর সাহেবদের মাযহাব ও ধর্ম সে ইসলাম নয় । বরং তাদের ধর্ম ও মাযহাব শুধু খোদা কেন্দ্রিক । অর্থাৎ খোদা থেকে তারা সরাসরি নির্দেশ পেয়ে থাকে । এজন্য তাদের শরী'আতের হুকুম মানার প্রয়োজন হয় না ।    পীরের মুরিদ

এ প্রসঙ্গে চরমোনাইয়ের পীর বলেন , ‘ মাওলানা রুমি ফরমাইয়াছেন- প্রেমিক লোকদের জন্য মিল্লাত ও মাজহাব ভিন্ন । তাহাদের মিল্লাত ও মাজহাব শুধু মা'বুদ কেন্দ্রিক । ' ( ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা , পৃ : ৭২ )

এমনকি আধ্যাত্মিকতার শীর্ষ মাকামে গেলে কোনো ইবাদত করার প্রয়োজন নেই তো বটেই বরং ইবাদত করার ইচ্ছে করলেও সে কাফের হয়ে যায় ।        পীরের মুরিদ

এ প্রসঙ্গে চন্দ্রপাড়ার পীর বলেন , ' হাক্কুল ইয়াকীন বা চূড়ান্ত প্রত্যয়ের মাধ্যমে একক সত্তায় উপনীত হওয়ার পর ঈমানের মাত্রাও শেষ হয়ে যায় । কেবল ইয়াকীন অবশিষ্ট থেকে যায় । এখানে এসেই হাক্কানী বা প্রকৃত বান্দাগণের ইবাদতের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটে ।       পীরের মুরিদ

মহান আল্লাহর বক্তব্যই তা সমর্থন করে । যেমন আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন

‘ ওয়া'বুদ রাব্বাকা হাত্তা ইয়া'তিইয়াকাল ইয়াকীন ’ ( হিজ্‌র ১৫:৯৯ ) ‘

এবং আল্লাহর বন্দেগী করো , যতক্ষণ না তোমার ইয়াকীন পূর্ণতা পায় । ' এ পর্যায়ে উপনীত হওয়ার মাধ্যম হলো এরফান বা আধ্যাত্মিকতা । অর্থাৎ আরেফদের জন্য এরফান ছাড়া অন্য কোনো ইবাদত নেই । যদিও ইবাদতের রূপে অনেক কিছুই করা হয় , তবু এর তাৎপর্য হচ্ছে তাওহীদ । মাকামে তাওহীদ অর্জন করার পর বন্দেগী করা কুফরি । নাউযুবিল্লাহ মিনহা ( এ থেকে আল্লাহ্র কাছে আমরা পানাহ্ চাই ) ।          পীরের মুরিদ

এ প্রসঙ্গে গাউসুল আযম বড়পীর রাহমাতুল্লাহে আলাইহি বলেছেন ... মান আরাদাল ইবাদাতা বা'দাত্ তিসালী ফাহুয়া কাফির । ' যে ব্যক্তি মাকামে তাওহীদ বা আল্লাহর সান্নিধ্যে উপনীত হয়ে ইবাদতের ইচ্ছা করেছে , সেই কাফির । ' ( সিরে হক্ক জামে নূর , সুফি সৈয়্যেদ আহমদ আলী সুরেশ্বরী , প্রকাশকালঃ ৩ রা ফেব্রুয়ারী ২০০৪ খৃ :)

এ হলো পীরের বক্তব্য অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত জামাতে সালাত আদায় করে গেছেন । সাহাবায়ে কিরামগণও করেছেন । এমনকি পূর্বের নবী - রাসুলরাও এমনটি করেছেন ।              পীরের মুরিদ

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে ......
' আমি যেখানেই থাকি , তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন । তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন , যতদিন জীবিত থাকি , ততদিন সালাত ও জাকাত আদায় করতে । ' ( মারইয়াম ১৯:৩১ )

(চ ). পীর - সুফিগণ অনেকসময় কুরআন - সুন্নাহ বহির্ভূত মনগড়া ইবাদত তৈরি করে । যেমন পীর - সুফিদের প্রসিদ্ধ ৬ লতিফার যিকির সম্পর্কে চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মো . এছহাক সাহেব বলেন , ‘ ৬ লতিফার কথা কোরআনে পাক ও হাদীস শরীফে নাই , তবে আল্লাহ পাকের ওলীগণ আল্লাহ পাককে পাইবার জন্য একটা রাস্তা হিসেবে ইহা বাহির করিয়াছেন । ( ভেদে মারেফাত ৩৪ পৃ :, আল - এছহাক পাবলিকেশন্স , ইসলামী টাওয়ার , ১১/১ বাংলাবাজার , ঢাকা- ১১০০ , সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন সংস্করণ : নভেম্বর , ২০০৬ )          পীরের মুরিদ

এ হলো পীর - সুফিদের নতুন ইসলামের সামান্য চিত্র । এছাড়া বহু তরীকা আবিষ্কার , কেউ ১২৬ তরীকা ( যেমন চরমমোনাই পীরের প্রায় সব কিতাবেই বলা হয়েছে ) , আবার কেউ ৩৫০ তরীকা ( সুফি - দর্শন ) আবিষ্কার করেছেন । আবার এগুলোর জন্য একএক তরীকার একএক জিকির । আবার সেই জিকিরের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও অঙ্গভঙ্গি , ইত্যাদী আবিষ্কার করা । এসবকিছুই কুরআন সুন্নাহ বাদ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে । যা আল্লাহর শরী'আত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র এক শরী'আহ । যা পীর সুফিগন নিজেরা তৈরি করেছেন । অথচ এ জাতীয় শরী'আহ তৈরি করার অধিকার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কাউকে দেননি ।               পীরের মুরিদ

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে.....

তাদের জন্য কি এমন কিছু শরীক আছে , যারা তাদের জন্য দ্বীনের বিধান দিয়েছে , যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? আর ফয়সালার ঘোষণা না থাকলে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েই যেত । আর নিশ্চয়ই জালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব । ' ( শুরা ৪২:২১ )

এ আয়াতে আল্লাহ ( সুব :) কঠোরভাবে নতুন কোনো শরী'আহ্ তথা ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করতে নিষেধ করেছেন । আল্লাহ প্রদত্ত শরী'আহর ভেতরে বহু তরীকার কোনো স্থান নেই ।              

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে ......

‘ তিনি তোমাদের জন্য দ্বীন বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন ; যে বিষয়ে তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন , আর আমি তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি এবং ইব্রাহিম , মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম তা হলো , তোমরা দ্বীন কায়েম করবে এবং এতে বিচ্ছিন্ন হবে না । তুমি মুশরিকদের যেদিকে আহ্বান করছ তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয় ; আল্লাহ যাকে চান তার দিকে নিয়ে আসেন । আর যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি হিদায়াত দান করেন ।       পীরের মুরিদ

এমনিভাবে আল্লাহ প্রদত্ত শরী'আহ বা কুরআন - সুন্নাহ ও আল্লাহর শরী'আতের বিপরীতে কেউ কোন হুকুম দিলে তা মান্য করা যাবে না।         পীরের মুরিদ                            
 
এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে .....

‘ উম্মে হুসাইন ( রা . ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া , সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- স্রষ্টাকে অমান্য করে সৃষ্টিজগতের কারো আনুগত্য চলবে না । ( জামেউল আহাদীস : হা : ১৩৪০৫ , মুয়াত্তা : হা : ১০ , মু'জামুল কাবীর : হা : ৩৮১ , মুসনাদে শিহাব : হা : ৮৭৩ আবি শাইবা : হা : ৩৩৭১৭ , কানযুল উম্মাল : হা : ১৪৮৭৫। )                  পীরের মুরিদ 

এই হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ,
আল্লাহর শরী'আহ্ এর বিপরীতে কারো আনুগত্য করা যাবে না । হোক সে মা - বাপ , বড় ভাই , ময় - মুরুব্বী , পীর - মুর্শিদ , আমির - উমারা , কারো আনুগত্য করা যাবে না যদি তারা আল্লাহর শরী'আতের বিপরীতে কোনো হুকুম করে ।        পীরের মুরিদ

এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ পাওয়া যায় নিম্নের হাদীসটিতে -

আলী ( রা . ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সেনাদল যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ করলেন । এক আনসারী ব্যক্তিকে তাদের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন এবং সাহাবীদের তার কথা শুনা ও মানার জন্য নির্দেশ দিলেন । অতঃপর তাদের কোনো আচরণে সেনাপতি রাগ করলেন । তিনি সকলকে লাকড়ি জমা করতে বললেন । সকলে লাকড়ি জমা করলো এরপর আগুন জ্বালাতে বললেন । সকলে আগুন জ্বালালো । তারপর সেনাপতি বললো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি তোমাদের আমার আনুগত্য করার এবং আমার কথা শুনা ও মানার নির্দেশ দেন নাই ? সকলেই বললো , হ্যাঁ । তিনি বললেন , তাহলে তোমাদের প্রতি আমার নির্দেশ তোমরা সকলেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড় । সাহাবীরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলেন এবং বললেন , আমরাতো আগুন থেকে বাঁচার জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসেছি । তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত আমরা আগুনে ঝাঁপ দিবো না । এ অবস্থায় কিছুক্ষন পর তার রাগ ঠাণ্ডা হলো এবং আগুনও নিভে গেল । যখন সাহাবারা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করলেন তখন বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উপস্থাপন করা হলো । উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন ' তারা যদি আমিরের কথা মতো আগুনে ঝাঁপ দিতো তাহলে তারা আর কখনোই তা থেকে বের হতে পারতো না । প্রকৃতপক্ষে আনুগত্য কেবল ন্যায় এবং সৎ কাজেই । ' ( মুসলিম ৪৮৭২ : বুখারী ৪৩৪০ ; মুসলিম ৪৬১৫ )          পীরের মুরিদ 

 এ হাদীস থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে , শরিয়তের বিরূদ্ধে কারো হুকুমের আনুগত্য করা যাবে না ।
 না কোনো ওলী - বুযুর্গের , আর না কোনো পীরে মুগার ।

(ছ) . পীর - সুফিদের আক্বীদাহ্ বিশ্বাস হলো আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইতে হলে পীর - ওলী বুযুর্গদের ভায়া মাধ্যম ছাড়া সম্ভব নয় । কোনো ব্যক্তি যদি অন্যায় করে আল্লাহর কাছে সরাসরি ক্ষমা চায় , সেক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাকে সরাসরি ক্ষমা করেন না । এ প্রসঙ্গে চরমোনাইয়ের পীর সাহেব বলেন , ' বান্দা অসংখ্য গুনাহ করার ফলে আল্লাহ পাক তাকে কবুল করতে চান না । পীর সাহেব আল্লাহ পাকের দরবারে অনুনয় - বিনয় করিয়া ঐ বান্দার জন্য দোয়া করবেন যাতে তিনি কবুল করে নেন । ঐ দোয়ার বরকতে আল্লাহ পাক তাহাকে কবুল করে নেন । ' ( ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা বইয়ের ৩৪ পৃ :)           পীরের মুরিদ

অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন
‘ আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে।আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ( নিসা ৪ : ১১০ )       পীরের মুরিদ

পবিত্র কুরআনের এই আয়াত বলছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সরাসরি গুনাহগারদের ক্ষমা করে দেন । কোনো ভায়া - মাধ্যমের শর্তারোপ করেন নাই । আর চরমোনাইয়ের পীর সাহেব বললেন , ' আল্লাহ সরাসরি মাফ করেন না ' । আমরা কার কথা বিশ্বাস করবো ? চরমোনাই পীর সাহেবের কথা না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা - এর নিজের কথা । অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা - এর কথা বিশ্বাস করতে হবে ।          পীরের মুরিদ

তার উপরে ঈমান রাখতে হবে । মনগড়া কারো কোনো কথা বিশ্বাস করা যাবে না । মূলত এই পীর সাহেবরা আল্লাহ এবং বান্দার মাঝখানে নিজেদের ভায়া মাধ্যম বানিয়ে আল্লাহর ইবাদতগুলোর মধ্যে নিজেদের অংশীদার বানায় । আর এভাবে যারা আল্লাহর ইবাদতকে নিজেরা গ্রহণ করে অথবা আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজেদের শরীক বানায় তারাই তাগূত । এরা আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের রবের আসনে বসিয়েছে ।       পীরের মুরিদ

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে ' তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসার - বৈরাগীদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে । ' ( তাওবাহ ৯:৩১ )
আর এর মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য পর্থিব জীবনের অর্থ সম্পদ উপার্জন করা । এ কারণে তারা মুরিদের আদব বর্ণনা করতে গিয়ে বলে থাকেন পীরের সাথে খালি হাতে দেখা করা ঠিক নয় । বরং কিছু হাদিয়া - তোহফা নিয়ে আসতে হয় । এভাবে তারা সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় দুর্বলতার সুযোগে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তোলে ।           পীরের মুরিদ

এরা মুরীদদের দুনিয়ার ধন - সম্পদের মায়া ত্যাগ করে ফকির - দরবেশ ও জঙ্গলের প্রবাসী হওয়ার উপদেশ দিলেও নিজেরা দামি গাড়ি , আলীশান বাড়ি , একাধিক সুন্দরী নারীসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন । তাদের মৃত্যুর পরে তাদের রেখে যাওয়া সম্পদের পাহাড় ভাগ - বাটোয়ারা নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতে দেখা যায় । এমনকি মামলা মোকদ্দমা হয়ে তা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায় । যা এদেশের কিছু বড় বড় পীরদের ব্যাপারে খোঁজ নিলেই জানা যাবে । এজন্যই কোনো কবি বলেছেন ‘ ইয়েহ্ হাল তেরা জাল হ্যায় , মকসুদ তেরা মাল হ্যায় কিয়া আজব তেরা চাল হ্যায় । '

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পবিত্র কুরআনে এ জাতীয় তাগূতদের মুখোশ উন্মোচন করে ইরশাদ করেছেন.....
হে ঈমানদারগণ ! নিশ্চয়ই পণ্ডিত ও সংসার বৈরাগীদের অনেকেই মানুষের ধন - সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে । ' ( তাওবাহ ৯:৩৪ )   পীরের মুরিদ

পীর - মুরিদির যে সিলসিলা বর্তমানকালে দেখা যাচ্ছে , এ জিনিস সম্পূর্ণ নতুন ও মনগড়াভাবে উদ্ভাবিত । এ জিনিস রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ছিল না , তিনি কখনো পীর - মুরিদি করেন , নি । তিনি নিজে বর্তমান অর্থে না ছিলেন পীর আর না ছিলেন সাহাবায়ে কিরাম তাঁর মুরিদ । সাহাবায়ে কিরামও কখনো এই পীর - মুরীদী করেন নি ।       পীরের মুরিদ

তাঁদের কেউ কারো ‘ পীর ’ ছিলনা এবং কেউ ছিলো না তাদের মুরিদ । তাবেঈন ও তাবে - তাবেঈনের যুগেও এ পীর - মুরিদির নাম চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না । শুধু তাই নয় । কুরআন হাদীস তন্ন তন্ন করে খুঁজেও এ পীর - মুরিদির কোনো দলিলের সন্ধান পাওয়া যাবে না ।

অথচ বর্তমানকালের এক শ্রেণীর পীর নামে কথিত জাহিল লোক ও তাদের ততোধিক জাহিল মুরিদ এ পীর মুরিদিকে ইসলামের অন্যতম ভিত্তিগত জিনিস বলে প্রচারণা চালাচ্ছে । আর এর মাধ্যমে অজ্ঞ মুর্খ লোকদের মুরিদ বানিয়ে এক একটি বড় আকারের বিনা পুঁজির ব্যবসা সাজিয়ে বসেছে । শরীয়াত মারিফাত : পীর - সুফিগণ ইসলামের সবচেয়ে বেশি যে সর্বনাশটি করেছে তা হলো শরী'আত ও তরীকতকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন এবং দুই স্বতন্ত্র জিনিস মনে করা ।     পীরের মুরিদ

এতদূর পতন ঘটেছে যে , শরীয়াতকে ' ইলমে জাহের ' এবং ‘ তরিকত বা মারিফাতকে ইলমে বাতেন বলে অভিহিত করে দ্বীন ইসলামকেই দ্বিধাবিভক্ত করে দেয়া হয়েছে । এক শ্রেণীর জাহিল তরীকতপন্থী বলতে শুরু করেছে যে , ইসলামের আসলই তরীকত মারিফাত , আর এই হাকীকত । এ হাকীকত কেউ যদি লাভ করতে পারল , তাহলে তাকে শরী'আত পালন করতে হয় না , সেতো আল্লাহকে পেয়েই গেছে । তাদের মতে শরী'আতের আলিম এক , আর মারিফাত বা তরীকতের আলিম অন্য । এ তরীকতের আলিমরাই উপমহাদেশে পীর নামে অভিহিত হয়ে থাকেন । কিন্তু তাসাউফবাদীরা এ মারিফাতকে কেন্দ্র করে গোলক ধাধার এক প্রাসাদ রচনা করেছে ।          পীরের মুরিদ

তাদের মতে মারিফাত বা ইলমে বাতেন ইসলামী শরী'আত থেকে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জিনিস । তাদের মতে রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু . আলাইহি ওয়া সাল্লাম না কি এ মারিফাত তাঁর কোনো কোনো সাহাবীকে শিক্ষা দিয়েছিলেন , আর অনেককে দেননি ।     পীরের মুরিদ

তাঁরা আরো মনে করেন , ইলমে বাতেন আলী ( রা . ) থেকে হাসান বসরী পর্যন্ত পৌঁছেছে । আর তাঁরই থেকে সীনায় - সীনায় এ জিনিস চলে এসেছে এ কালের পীরদের পর্যন্ত । এই সমস্ত কথাই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন । কেননা রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাউকেই এ জিনিস শিখিয়ে জান নি , যা এখনকার পীর তার মুরিদকে শিখিয়ে থাকে । তিনি এরূপ করতে কাউকে বলেও যান নি । কোনো দরকারী ইলম তিনি কোনো কোনো সাহাবীকে শিখিয়ে দেবেন , আর অনেক সাহাবীকেই তা থেকে বঞ্চিত রাখবেন এরূপ করা নবী করীমের নীতি ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ।        পীরের মুরিদ

তা ছাড়া হাসান বসরি ( র . ) বড় হওয়ার পর আলী ( রা . ) এর সাক্ষাৎ পাননি , তাঁর নিকট থেকে মারিফাত শিক্ষা করা ও খিলাফতের ‘ খিরকা ' লাভ করা তো দূরের কথা । আসলে এ কথাটাই বাতিল । শেষের জামানার লোকেরা এটাকে রচনা করেছে ও কবুল করেছে । আর এ ধরনের কথা আদৌ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না । আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী আল্লামা ইবনে হাযার আসকালানীর ( ৭৭৩ হি. ৮৫২ হি . যিনি বুখারী শরীফের শরাহ বা ভাষ্য গ্রন্থ ' ফতহুল বারী লিখেছেন )

উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন সুফি ও মারিফাতপন্থীরা যে সব তরীকা ও নিয়ম - নীতি প্রমাণ করতে চায় , তা প্রমাণ হওয়ার মতো কোনো জিনিসই নয় । সহীহ , হাসান বা যয়ীফ কোনো প্রকার হাদীসেই একথা বলা হয়নি যে , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোনো সাহাবীকে তাসাউফপন্থীদের প্রচলিত ধরনের খিলাফতের ‘ খিরকা ’ ( বিশেষ ধরনের জামা বা পোশাক ) পরিয়ে দিয়েছেন । সেরূপ করতে তিনি কাউকে হুকুমও করেননি । এ পর্যায়ে যা কিছু বর্ণনা করা হয় , তা সবই সুস্পষ্টরূপে বাতিল ।

তা ছাড়া আলী ( রা . ) হাসান বসরিকে ‘ খিরকা পরিয়েছেন ( মারিফাতের খিলাফাত দিয়েছেন ) বলে যে দাবি করা হয় , তা সম্পূর্ণরূপে মনগড়া মিথ্যা  কথা । শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী এ সম্পর্কে লিখেছেন মারিফাতের যেসব তরীকা , মুরাকাবা - মুশাহাদা ও যিকির এখনকার পীরেরা তাদের মুরীদদের শিখিয়ে থাকে , তা রাসুল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাহাবায়ে কিরামের জামানায় ছিল না । উপায় - উপার্জন ত্যাগ করা , তালিযুক্ত পোশাক পরা ও বিয়ে - ঘর সংসার না করা ও খানকার মধ্যে বসে থাকা সেকালে প্রচলিত ছিল না ।       পীরের মুরিদ

ওয়াহদাতুল ওযুদ : পীর - সুফিদের মতে বান্দা আল্লাহর ইবাদত করতে করতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যায় যখন বান্দার মধ্যে আর আল্লাহর মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকে না । চিনি যেরকম পানির সাথে মিশে যায় আল্লাহর ওলীরাও তেমনিভাবে আল্লাহর সাথে মিশে যায় ।       পীরের মুরিদ

সুফিদের পরিভাষায় এটাকে ' হুলুল ' বলা হয় । এই আক্বীদাহ্র রূপকার হিসেবে মানসুর হাল্লাজকে মনে করা হয় । পীর - সুফিদের অপর অংশের মতো হলো বান্দা ও আল্লাহ্ কখনোই ভিন্ন ছিলো না । বরং সবকিছুই আল্লাহর প্রতিচ্ছবি । আল্লাহর ভিন্ন কোনো অস্তিত্ব নেই । তিনি সব কিছুর মধ্যে মিশে আছেন । আর এ কারণেই তারা বিশ্বাস করে ' মুমিন বান্দার কলব হলো আল্লাহর আরশ । ' এই আক্বীদাহ্ ওয়াহদাতুল ওযুদ নামে প্রসিদ্ধ । এই মতবাদের প্রথম রূপকার হিসেবে সুফিদের শায়খে আকবার মহিউদ্দীন ইবনে আরাবী কে মনে করা হয় । একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে এ দর্শনের সঠিক পরিচয় হল অদ্বৈত্যবাদ ( হিন্দুদের আকীদার ভিত্তি ) । মানে আল্লাহ ও জগত কিংবা স্রষ্টা এবং যিনি স্রষ্টা অভিন্ন বিশ্বাস করা যা একটি স্পষ্ট ভ্রান্ত আকিদা ।         পীরের মুরিদ

যা সৃষ্টি তাই স্রষ্টা এবং যিনি স্রষ্টা তিনিই সৃষ্টি- অদ্বৈত্যবাদী মতাদর্শের এই গোড়ার কথা । আর তা - ই হচ্ছে হিন্দু ধর্মের তত্ত্ব , যা বর্তমানে পীর - মুরিদি ধারায় ইসলামের মারিফাত নাম ধারণ করে মুসলিম সমাজে প্রচলিত হয়েছে এবং এ যে স্পষ্ট শিরক তাতে এক বিন্দু সন্দেহের অবকাশ নেই । বস্তুত ইসলাম এক সর্বাত্মক দ্বীন , মানুষ যখন শরী'আত মুতাবিক আমল করে , তখন হয় শরী'আতের আমল । পীর - মুরিদি সম্পর্কে মুজাদ্দিদে আলফেসানী শরী'আত ও মারিফাত পর্যায়ে তিনি তাঁর —মাকতুবাতে লিখেছেন , কাল কিয়ামতের দিন শরী'আত সম্পর্কেই । জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে , তাসাউফ সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞাসা করা হবে না । জান্নাতে যাওয়া ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়া শরী'আতের বিধান পালনের ওপর নির্ভরশীল । এ জাতীয় আরো বহু ভ্রান্ত আকীদাহ বিশ্বাস ও বিদ'আতের সমন্বয়ে ইসলামের নামে যে নতুন ধর্মটি চালু হয়েছে তার নাম সুফিইজম আর এই সুফিইজম - কে কেন্দ্র করে বহু ইলাহ ও বহু রবের ইবাদত ইসলামে প্রবেশ করেছে ।          পীরের মুরিদ

মাজার পূজা , কবর পূজা , গাছ পূজা , মাছ পূজা , কচ্ছপ পূজা , কুমীর পূজা , গজার মাছ পূজা । খাঁজা বাবা , গাঁজা বাবা , লেংটা বাবা , বান্দা নেওয়াজ , গরীব নেওয়াজ , জুলফেদরাজ , গেছোঁদরাজ , মুশকিলকুশা , হাজতরাওয়া , গাউস - কুতুব , আকতাব - আবদাল , গাউসুল আযম ইত্যাদি নাম দিয়ে বিভিন্নভাবে এদের ইবাদত করা হয় । যাদের নামে এগুলো করা হচ্ছে তারা যদি তাদের জীবদ্দশায় এগুলো করার জন্য আদেশ করে গিয়ে থাকেন ।      পীরের মুরিদ

অথবা তাদের কেন্দ্র করে এ ধরনের শিক বিদ'আত করা হতে পারে একথা জানা সত্ত্বেও যদি নিষেধ না করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তারা তাগূত বলে বিবেচিত হবে ।

আর যদি তারা এগুলো নিষেধ করে গিয়ে থাকেন অথবা তাদের অজান্তেই এসব করা হয় তাহলে তারা তাগূত বলে গণ্য হবেন না । এক্ষেত্রে যারা এগুলো করেছে শুধু মাত্র তারাই গুনাহগার হবে ।

এ প্রসঙ্গে ঈসা ( আ . ) এর বিষয়টি দলিল হিসেবে পেশ করা যেতে পারে । ঈসা ( আ . ) - কেও খৃস্টানরা আল্লাহর পুত্র দাবি করে তার ইবাদত করেছে । কিন্তু এজন্য ঈসা ( আ . ) - কে তাগূত বলা যাবে না । কেননা তিনি এগুলো করতে বলেননি এবং তাঁর এগুলো জানাও ছিলো না । পবিত্র কুরআনে বিষয়টি এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে আর আল্লাহু যখন বলবেন , ' হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা , তুমি কি মানুষদের বলেছিলে যে , ‘ তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার মাতাকে ইলাহরূপে —গ্রহণ কর ? ’ সে বলবে , ‘ আপনি পবিত্র মহান , যার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার জন্য সম্ভব নয় । যদি আমি তা বলতাম তাহলে অবশ্যই আপনি তা জানতেন । আমার অন্তরে যা আছে তা আপনি জানেন , আর আপনার অন্তরে যা আছে তা আমি জানি না ; নিশ্চয়ই আপনি গায়েবি বিষয়সমূহে সর্বজ্ঞাত ।
( মায়েদা , ৫ : ১১৬ )       পীরের মুরিদ

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া